আমাদের কর্মসূচি

কর্ম

পরিকল্পনা

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তব উদ্যোগ

এই কর্মসূচিগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। এগুলো মানুষের বাস্তব সমস্যা, দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে রেখে পরিকল্পিত উদ্যোগ। ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলী বিশ্বাস করেন—রাজনীতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।

ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার কর্মসূচি

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে তুলে ধরা, সাক্ষ্য ও তথ্য সংরক্ষণ করা এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভয় নয়, সত্যকে সামনে আনার চেষ্টা করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার সহায়তা কর্মসূচি

গুম ও সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটায়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সংযোগ তৈরি করা হয়, যাতে তারা একা না থাকে এবং তাদের কষ্ট রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে দৃশ্যমান হয়।

নাগরিক সচেতনতা ও গণসংযোগ কর্মসূচি

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার টিকে থাকে সচেতন নাগরিকের মাধ্যমে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, আলোচনা সভা, উঠান বৈঠক এবং জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মানুষের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যাকে নীতিগত আলোচনায় নিয়ে আসাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন কর্মসূচি

নারী নিরাপত্তা ছাড়া কোনো মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয় এবং সহিংসতার শিকার নারীদের পাশে দাঁড়ানো হয়। লক্ষ্য হলো নারীদের ভয়মুক্ত পরিবেশে কথা বলার ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।

নাগরিক সেবা ও সামাজিক সহায়তা উদ্যোগ

পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—এই মৌলিক সেবাগুলো মানুষের অধিকার। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিক সেবায় অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হয়।

স্মৃতি ও ডকুমেন্টেশন কর্মসূচি

গুম ও সহিংসতার ইতিহাস যেন হারিয়ে না যায়—এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্মৃতি, সাক্ষ্য ও নথি সংরক্ষণ করা হয়। এটি শুধু অতীতের দলিল নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নৈতিক সাক্ষ্য, যা দায়মুক্তির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি কর্মসূচি

দেশের ভেতরে ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরা এই কর্মসূচির অংশ। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংহতি গড়ে তোলা হয়।

ভবিষ্যৎ কর্মসূচির দিকনির্দেশনা

এই কর্মসূচিগুলো চলমান ও বিকাশমান। মানুষের প্রয়োজন, সময়ের বাস্তবতা এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এগুলো আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা হবে। লক্ষ্য একটাই—একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও ভয়মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।

পরিবর্তনের অংশ হোন।

কর্মসূচি তখনই সফল হয়, যখন মানুষ এতে নিজেদের খুঁজে পায়। এই উদ্যোগগুলো মানুষের কথা বলার, শোনার এবং পরিবর্তনের পথে একসঙ্গে হাঁটার আহ্বান।