মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক
সহ-প্রতিষ্ঠাতা, মায়ের ডাক
গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডবিরোধী আন্দোলনের কণ্ঠস্বর
কর্পোরেট নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামে সক্রিয় প্রতিনিধি
সানজিদা ইসলাম তুলী তাঁর শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। এর আগে তিনি বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক—উভয় পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তাঁর এই শিক্ষাগত ভিত্তি তাঁকে পেশাগত দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ করেছে, যা পরবর্তীতে কর্পোরেট নেতৃত্ব ও মানবাধিকার আন্দোলন—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মায়ের ডাক আজ শুধু একটি সংগঠন নয়—এটি একটি নৈতিক প্রতিবাদ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলী শতাধিক গুমের ঘটনার সাক্ষ্য ও তথ্য সংরক্ষণে কাজ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানসিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে ধরাই এই আন্দোলনের মূল কাজ। জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তাঁর কণ্ঠস্বর স্থানীয় সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক সংহতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলী মনে করেন, মানবাধিকার শুধু একটি আন্দোলন নয়—এটি একটি সামাজিক চুক্তি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ভয় নয়, মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে—এই লক্ষ্যেই তাঁর কাজ অব্যাহত থাকবে। ব্যক্তিগত বেদনা থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগ্রাম আজ একটি বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলীর রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। এটি স্মৃতি, সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতি। তিনি বিশ্বাস করেন— ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। সত্য চাপা দেওয়া যায়, মুছে ফেলা যায় না। রাষ্ট্র মানুষের জন্য—মানুষ রাষ্ট্রের জন্য নয়। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন।ব্যক্তিগত বেদনা থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগ্রাম আজ একটি বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
ব্যাচেলর অব সায়েন্স (টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং) — ১ম শ্রেণি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৫ উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) — ১ম বিভাগ বিএএফ শাহীন কলেজ, ২০০০
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) — ১ম বিভাগ বিএএফ শাহীন কলেজ, ১৯৯৮
মানবাধিকার আন্দোলনের পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলীর কর্পোরেট অভিজ্ঞতা তাঁর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। ব্যবস্থাপনা, দল গঠন, আলোচনার দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি সংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন পরিচালনায় সহায়তা করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন—কার্যকর নেতৃত্ব মানে শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা। ব্যবস্থাপনা পরিচালক — গ্লোবাল অ্যাপারেল নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (২০২২ থেকে বর্তমান) বিজনেস ইউনিট ম্যানেজার — Marks and Spencer, বাংলাদেশ (২০১৮ থেকে ২০২১)
বিজনেস ইউনিট টিম লিডার — Marks and Spencer, বাংলাদেশ (২০১৭ থেকে ২০১৮) সহকারী মার্চেন্ডাইজার — অপেক্স গ্রুপ (ক্রেতা: Charming Shoppes Incorporated) (২০০৬ থেকে ২০০৭)
ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলী একজন মানবাধিকার কর্মী, নাগরিক অধিকার রক্ষার সংগঠক এবং মায়ের ডাক এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। পেশাগতভাবে তিনি একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্পোরেট জগতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই পেশাগত অভিজ্ঞতাই তাঁকে সংগঠন গড়া, কৌশল নির্ধারণ এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা দিয়েছে। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০১৩ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। সেই সময় তাঁর ভাইসহ বহু রাজনৈতিক কর্মী গুমের শিকার হন। ব্যক্তিগত এই ক্ষতি তাঁকে নীরব থাকতে দেয়নি। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের সংগ্রামে যুক্ত হওয়াই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের লক্ষ্য।তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০১৩ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। সেই সময় তাঁর ভাইসহ বহু রাজনৈতিক কর্মী গুমের শিকার হন। ব্যক্তিগত এই ক্ষতি তাঁকে নীরব থাকতে দেয়নি। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের সংগ্রামে যুক্ত হওয়াই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের লক্ষ্য।
গুম কেবল একজন মানুষকে হারিয়ে ফেলা নয়—এটি একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রাখে। মা, স্ত্রী ও সন্তানদের জীবন থমকে যায় অপেক্ষার মধ্যে। এই বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলী। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছেন, ন্যায়বিচার শুধু আইনের বিষয় নয়—এটি মানবিকতার প্রশ্ন। এই উপলব্ধি তাঁকে ২০১৪ সালে মায়ের ডাক আন্দোলনের সহ-প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে। এই আন্দোলন গড়ে ওঠে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে কেন্দ্র করে—যেখানে মায়েরা, স্ত্রী ও সন্তানরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়বিচারের দাবি জানায়।