১. দেশের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কোনো অবস্থাতেই জাতির মৌলিক অধিকারের উৎখাত হবে না।
২. রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে গণতান্ত্রিক ও দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রদান করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৩. জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি দৃঢ় হয়।
৪. সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মৌলিক মানবিক স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হবে এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫. রাষ্ট্র সকল ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সমান আচরণ করবে এবং ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ মূলনীতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
৬. সাংবিধানিক রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা রাষ্ট্রীয় নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিপালিত হবে এবং এর অধিকারকে কোনভাবেই হস্তক্ষেপ করা হবে না।
৭. প্রশাসনিক কাঠামোকে জনগণের কাছে নিকটস্থ, দ্রুত কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়িত করা হবে।
৮. শ্রমিক ও কর্মচারী জনগণের ন্যায্য মজুরি ও সুযোগভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সমান সুযোগ প্রদান করা হবে এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারগুলো সুরক্ষিত রাখা হবে।
৯. মানুষের মৌলিক জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদ রক্ষায় আইন, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিচারব্যবস্থা সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা পাবে।
১০. দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও শোষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
১১. নাগরিকদের মত প্রকাশ, সংবাদ মাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হবে এবং সুষ্ঠু গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
১২. শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে মানুষের উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি করা হবে, যাতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।
১৩. সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হবে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে কার্যকর নীতি বাস্তবায়িত হবে।
১৪. দেশের অর্থনীতি মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনা হবে, যাতে সকল মানুষের সুযোগ সমানভাবে প্রচারিত হয়।
১৫. শ্রমজীবী জনগণের নিরাপত্তা, জীবন ও কর্মস্থানের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং শ্রমিক অধিকার সংরক্ষিত হবে।
১৬. দেশীয় সম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতির সুষম ব্যবস্থাপনায় নিবিড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
১৭. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
১৮. বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কসমূহ জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়িত হবে এবং কোন প্রকার সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক অপতৎপরতা আশ্রয় দেওয়া হবে না।
১৯. দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংগত ও স্থিতিশীল করে গড়ে তুলতে সমাজের প্রতিটি স্তরে সমন্বিত, দায়িত্বশীল ও অংশগ্রহণমূলক কাঠামো নিশ্চিত করা হবে।