ঢাকা–১৪ এলাকার নাগরিক জীবনের প্রধান সংকট হলো ভাঙা রাস্তা, জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এই সমস্যাগুলো মানুষের চলাচল, ব্যবসা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত রাস্তা ও কার্যকর ড্রেনেজ উন্নয়নের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য এলাকা গড়ে তোলা হবে।
মাদক ও সন্ত্রাস যুবসমাজকে ধ্বংস করছে এবং সমাজে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে গড়ে ওঠা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থাকবে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান। জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নারী নিরাপত্তা ও সম্মান ছাড়া কোনো সমাজ টেকসইভাবে এগোতে পারে না। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের জন্য কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ সৃষ্টি করে একটি নারীবান্ধব ঢাকা–১৪ গড়ে তোলা হবে।
শিক্ষা হতে হবে মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে, কেবল সনদনির্ভর নয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যুবসমাজ এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি, কিন্তু বেকারত্ব তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করছে। দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। তরুণদের স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দিতেই এই উদ্যোগ।
গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অগ্রহণযোগ্য। এসব ঘটনার অবসান এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভয় নয়—আইনের শাসন ও মানবাধিকারের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
পরিবর্তন একদিনে আসে না, কিন্তু একটি সচেতন ভোট সেই পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। আপনার ভোটই নির্ধারণ করবে ঢাকা–১৪ হবে নিরাপদ, মানবিক ও উন্নত একটি এলাকা কি না। ন্যায়, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের পক্ষে আপনার ভোটই আমাদের শক্তি।
আমরা এমন একটি সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন মানুষ নিরাপত্তাহীন, ন্যায়বিচার অনিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহিতা হারিয়েছে। গুম, খুন, দমন-পীড়ন ও ভয় আমাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নীরব থাকা মানে অন্যায়ের পাশে দাঁড়ানো। তাই এই ইশতেহার একটি স্পষ্ট ঘোষণা—ভয় নয় ন্যায়, নীরবতা নয় সত্য, দায়মুক্তি নয় জবাবদিহিতা।
আমার রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। আমার রাজনীতি মানুষের জীবনের রাজনীতি। আমি বিশ্বাস করি রাষ্ট্র মানুষের জন্য, মানুষ রাষ্ট্রের জন্য নয়। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। সত্য চাপা দেওয়া যায়, মুছে ফেলা যায় না। রাজনীতি যদি মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত না করে, তবে সেই রাজনীতির কোনো অর্থ নেই।
নিরাপত্তা মানে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়। নিরাপত্তা মানে ভয় ছাড়া বাঁচার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতা থেকে সুরক্ষা। আমি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কোনো মানুষ গুম হবে না, কোনো পরিবার অনিশ্চয়তায় আটকে থাকবে না এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব।
গুম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। আমি নিজে এই বেদনার ভেতর দিয়ে এসেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমার অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমি কখনো আপস করব না। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবি রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে তুলে ধরব এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভেঙে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করব।
উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়; উন্নয়ন মানে মানুষের জীবন সহজ হওয়া। পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। এসব সেবা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের ভোগান্তির কারণ হতে পারে না। আমি চাই নাগরিক সেবা হবে সহজ, স্বচ্ছ ও মানবিক, যাতে মানুষ সেবার জন্য অপমানিত বা হয়রানির শিকার না হয়।
তরুণরা এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু ভয়, বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা তাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছে। আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে তরুণরা ভয় নয় স্বপ্ন নিয়ে বাঁচবে, দক্ষতা ও সুযোগ পাবে এবং রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই আমার অন্যতম অঙ্গীকার।
নারী নিরাপত্তা ছাড়া কোনো সমাজ এগোতে পারে না। গুম ও সহিংসতার ঘটনায় নারীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। আমি অঙ্গীকার করছি—নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সহিংসতার বিরুদ্ধে থাকবে জিরো টলারেন্স এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো হবে রাষ্ট্রের নৈতিক কর্তব্য।
গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়। গণতন্ত্র মানে জবাবদিহিতা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের কাছে ক্ষমতার দায়। আমি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং আইনের শাসন বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবে।
এই ইশতেহার একা আমার নয়। এটি সকল নির্যাতিত মানুষের, সকল নীরব কণ্ঠের এবং সকল ন্যায়ের দাবির ইশতেহার। সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে, ভয় ও নিপীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে—আমাদের সঙ্গে থাকুন।